মিসেস অগ্নিহোত্রী

সব সংগীত রুদ্ধ তার,  চামড়ায় নেই গত্তি 

মাঝসাগরে মাপছেন জল মিসেস অগ্নিহোত্রী। 

এই রাত কাটবে  কি আজ তার – হৃদস্পন্দন হচ্ছে ক্রমে ক্ষীণ, 

বিধাতাকে বলছে চুপিচুপি

“ আজকে আমায় দিওনাগো ছুটি   – আজ যে আমার চাঁদের জন্মদিন ।”

 

তার চাঁদ আজ সওদাগরের দেশে

 সওদা হয়ে গড়েছে বসতি,

অধিবৃত্তে  করছে পরিক্রমা 

স্ত্রী বান্ধব সন্তান সন্ততি।  

 

সেদিনও ছিল এমনি মধ্যযাম 

               প্রসব ব্যথা শরীর জুড়ে অদম্য উচ্ছল, 

নাড়ির টানের সেই সে গোপন ব্যথা 

               তাই শুধু আজ নারীর সম্বল।

দিনের যত ঋণের বোঝা মিটিয়ে দেবে রাত্রি, 

শরীর জুড়ে জোছনা নিয়ে মিসেস অগ্নিহোত্রী। 

 

ও চাঁদ তুমি নিজের সাথে আর কি বলো কথা ?

বৃষ্টিভেজা গন্ধ বুকে লেখো  কি কবিতা ?

ও চাঁদ তোমার মন খোঁজে না    গল্পগান আর  কথায় বোনা 

      মায়ের হাতের  একটি গ্রাস ?

রাজার কুমার আর দত্যিদানো   সবাই মতোই  সত্যি জেনো  

     রবি ঠাকুর  বীর সুভাষ।  

রূপকথা যে  চুপ করে আজ, সময় যেন ধাত্রী  

স্মৃতির সাথে একলা জাগেন  মিসেস অগ্নিহোত্রী।  

 

তবু কোথাও বুকের মাঝে আশা 

      সওদাগরের নৌকা যদি ভেড়ে 

দুহাতের মাঝে ধরে চাঁদের মুখ 

     একনিঃশ্বাসে চুমোয় দেবে ভরে।  

শূন্য বুকে হাপর পাঁজর,

চাঁদের দেশের নাইরে খবর –

চাওয়ার মতো চাইলে নাকি সব পাওয়া যায় – সত্যি !

হাওয়ার বুকে চুম এঁকে যান মিসেস অগ্নিহোত্রী।    

 

দমকা হাওয়ায় কপাট – হঠাৎ ঝাপটানি তার ডানায়,  

বুঝি সময় হলো পাড়ি দিতে নতুন ঠিকানায়। 

“আবার আমায় ফিরিয়ে দিও প্রভু, গর্ভে দিও চাঁদ –

বলো হে নাথ এক জনমে,  মেটে কি মায়ের সাধ ! ”

 

একলা চলায় নেই কোনো আর ভয়,  অগম  পথের যাত্রী –

পাখিদের আজান শুরুর আগেই 

অনেকটা পথ এগিয়ে গেলেন মিসেস অগ্নিহোত্রী।